সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২০, ০১:২৩ পূর্বাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম :
শিবচরে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে এক ভ্যান চালকের মৃত্যু শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ী নৌরুট হয়ে রাজধানীমুখী যাত্রীদের ভীড়, শিমু‌লিয়া ঘা‌টে পদ্মার ভাঙন শিবচ‌রের উ‌মেদপু‌রে দুই প‌ক্ষের সংঘ‌র্ষে টেটা‌বিদ্ধ হ‌য়ে একজন নিহত, আহত ৬ কাঁঠালবাড়ী নৌরুটে উভয়মুখী যাত্রী চাপ, বৈরী আবহাওয়ায় নৌযান পারাপারে বিঘ্ন শিবচরসহ মাদারীপুর জেলাজুড়ে অবৈধ ড্রেজারের বিরুদ্ধে সাঁড়াশী অভিযান লেবাননে নিহত মাদারীপুরের মিজানুরের বাড়িতে শোকের মাতম পদ্মার ভাঙনে শিমুলিয়ার ৩ নম্বর রো রো ঘাট দিয়ে ফেরি চলাচল বন্ধ শিবচরে জমে উঠতে শুরু করেছে কুরবানির পশুর হাটগুলো, দাম নিয়ে সংশয় ক্রেতা-বিক্রেতাদের মাঝে প্রেমের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় মাদারীপুরে স্কুল ছাত্রীকে কুপিয়ে জখম করার ঘটনায় অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব করোনায় শিবচর হাসপাতালের স্টাফ, ব্যাংকারসহ ৩ জন আক্রান্ত
পদ্মার ভাঙ্গনে শিবচরে আরো একটি ৩ তলা স্কুল ভবন বিলীন, জিও ব্যাগ ডাম্পিং চলছে

পদ্মার ভাঙ্গনে শিবচরে আরো একটি ৩ তলা স্কুল ভবন বিলীন, জিও ব্যাগ ডাম্পিং চলছে

শিবচর বুলেটিন ডেস্কঃ পদ্মা ও আড়িয়াল খা নদে পানি বৃদ্ধির সাথে সাথে তীব্র স্রোত অব্যাহত থেকে মাদারীপুরের শিবচরের বিভিন্ন এলাকায় নদী ভাঙ্গন ব্যাপক আকার ধারন করেছে। পদ্মার ভাঙ্গনে চরাঞ্চল কাঁঠালবাড়ি ইউনিয়নের একটি ৩ তলা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় কাম সাইক্লোন সেন্টার ভবন নদীতে বিলীন হয়েছে। এছাড়া ভাঙ্গন ঝুকিতে রয়েছে বন্দরখোলা ইউনিয়ন পরিষদ ভবন, প্রাথমিক বিদ্যালয়, কমিউনিটি ক্লিনিকসহ গুরুত্বপূর্ন স্থাপনা। এখনো পানিবন্দি রয়েছে হাজার হাজার পরিবার। ভাঙ্গন প্রতিরোধে চীফ হুইপ নূর-ই আলম চৌধুরীর নির্দেশনায় জিও ব্যাগ ডাম্পিং চালিয়ে যাচ্ছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। চীফ হুইপের পক্ষ থেকে দূর্গতদের মাঝে খাবার সহায়তা বিতরন অব্যাহত রয়েছে।
জানা যায়, গত ২৪ ঘন্টায় শিবচরের পদ্মা ও আড়িয়াল খা নদে অস্বাভাবিক হারে পানি বৃদ্ধি পেয়ে তীব্র স্রোত অব্যাহত থেকে নদী ভাঙ্গন ব্যাপক আকার ধারন করেছে ৭ ইউনিয়নে । পদ্মা তীরবর্ত্তী উপজেলার বন্দরখোলা,কাঠালবাড়ি ও চরজানাজাতে নদী ভাঙ্গন ভয়াবহ আকার ধারন করেছে। পদ্মার ভয়াবহ ভাঙ্গনে মঙ্গলবার বিকেলে কাঁঠালবাড়ি ইউনিয়নের ৭৭ নং কাঁঠালবাড়ি সরকারী বিদ্যালয় কাম সাইক্লোন সেন্টার ভবনটির বৃহৎ অশং বিলীন হয়। বিদ্যালয়টিতে ২ শ ৭২ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। গত কয়েকদিন ধরে বিদ্যালয়টি ভাঙ্গন ঝুকিতে থাকায় চীফ হুইপ নূর-ই আলম চৌধুরীর নির্দেশনায় ভাঙ্গন প্রতিরোধে গত শুক্রবার বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদ, শিক্ষকবৃন্দর উপস্থিতিতে জিও ব্যাগ ডাম্পিং করা হয়। তবে তীব্র ¯্রােতের কারনে বিদ্যালয়টি নদীতে বিলীন হয়ে যায়। মঙ্গলবার বিকেলে ভারপ্রাপ্ত উপজেলা চেয়ারম্যান বিএম আতাউর রহমান আতাহার, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো: রফিকুল ইসলাম, সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা এসএম মাহতাফ উদ্দিন, জাহিদ হোসেন মোল্লা, মিনহাজুর রহমান, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক কল্যান সমিতির সাধারন সম্পাদক নূরে আলম সিদ্দিকী রবিউলসহ শিক্ষক ও ম্যানেজিং কমিটির সদস্যরা বিলীন হওয়া বিদ্যালয়টি পরিদর্শন করেছেন। এদিকে পদ্মা নদীর ভাঙ্গনে কয়েকদিন আগেই বন্দরখোলা ইউনিয়নে একটি ৩ তলা মাধ্যমিক বিদ্যালয় বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙ্গন ঝুকিতে রয়েছে বন্দরখোলা ইউনিয়ন পরিষদ ভবন, কমিউনিটি ক্লিনিক ভবন, কাজীর সূরা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, বাজারসহ গুরুত্বপূর্ন স্থাপনা। আড়িয়াল খা তীরবর্ত্তী সন্ন্যাসীরচর, শিরুয়াইল,নিলখী ও বহেরাতলা দক্ষিনেও নদী ভাঙ্গন দেখা দিয়ে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এ পর্যন্ত নদীতে বিলীন হয়েছে সাড়ে ৪ শতাধিক ঘরবাড়ি। এসকল এলাকায় খোলা ২১ টি আশ্রয় কেন্দ্রে প্রায় ৩ হাজার মানুষ আশ্রয় নিয়েছে। ভাঙ্গন প্রতিরোধে জিও ব্যাগ ডাম্পিং কার্যক্রম চলমান রয়েছে। দূর্গত এলাকায় চীফ হুইপ নূর-ই-আলম চৌধুরীর পক্ষ থেকে খাবার বিতরন কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
৭৭ নং কাঁঠালবাড়ি সরকারী বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি জুলহাস বেপারী বলেন, ভাঙ্গন শুরু হওয়ার পর কয়েকদিন আগে চীফ হুইপ নূর-ই আলম চৌধুরীর নির্দেশে বিদ্যালয় ফান্ড থেকে ৬ শ ব্যাগ বালুর বস্তা ফেলা হয়েছিল।
৭৭ নং কাঁঠালবাড়ি সরকারী বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নাসিমা আক্তার বলেন, বিদ্যালয়টি ভাঙ্গনের ফলে শিক্ষার্থীদের লেখাপড়া নিয়ে চিন্তায় আছি। খুবই কষ্ট লাগছে।

কাঠালবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান সোহেল বেপারি বলেন, তীব্র স্রোত ও নদী ভাঙ্গনে স্কুল ভবনটির বড় অংশ নদীতে ধসে পড়েছে। স্কুলটির রক্ষায় চীফ হুইপ মহোদয়ের নির্দেশে জিও ব্যাগ ডাম্পিং চলছিল।

উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো: রফিকুল ইসলাম বলেন, প্রায় এক মাস ধরেই আমরা ভাঙ্গন আতংকে ছিলাম। বিদ্যালয়টি রক্ষায় চীফ হুইপ স্যারের নির্দেশে গত শুক্রবার ৬ শ ব্যাগ বালুর বস্তা ফেলা হয়েছিল। পদ্মায় তীব্র স্রোতের কারনে আর রক্ষা করা গেল না।
ভারপ্রাপ্ত উপজেলা চেয়ারম্যান বিএম আতাউর রহমান আতাহার বলেন, পদ্মা নদীর ভাঙ্গনে এই বিদ্যালয়টি বিলীন হয়েছে। এর আগে বন্দরখোলায় আরো একটি স্কুল বিলীন হয়েছে। এছাড়া অনেক ঘরবাড়ি বিলীন হয়েছে। আর অসংখ্য পরিবার পানিবন্দি রয়েছে। ভাঙ্গন প্রতিরোধে চীফ হুইপ নূর-ই আলম চৌধুরীর নির্দেশে জিও ব্যাগ ডাম্পিং চলমান রয়েছে।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




themesba-zoom1715152249
© শিবচর বুলেটিন। সর্বসত্ব সংরক্ষিত।
ডিজাইন ও ডেভেলপে Host Web